আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬
Australia students visa
বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। একের পর এক ‘জালিয়াতির ঘটনার’ প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম।
গত ১১ জানুয়ারি ‘নিউজ ডটকম ডটএইউয়ের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীরাও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ির মুখে পড়বেন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গেল বছর অস্ট্রেলিয়ায় যত বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, তার এক তৃতীয়াংশই এই চার দেশের।
দেশটির ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভি বলেন, এখন থেকে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ‘লেভেল-টু’ থেকে ‘লেভেল-থ্রি’ তে উন্নীত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ‘নিউজ ডটকম ডটএইউ’ বলেছে, “২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
“এই পরিবর্তনের ফলে জালিয়াতির সমস্যাগুলো আরো ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত সুবিধা দেওয়া অব্যাহত রাখা যাবে।”
ওই মুখপাত্র বলেন, “অস্ট্রেলিয়া সরকার চায়, এখানে অবস্থানকালে সব শিক্ষার্থীর মধ্যে যেন এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকে।
“আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভিসা কর্মসূচিতে সঠিক কাঠামো থাকা জরুরি, যেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেরা মানের শিক্ষা পেতে নিশ্চিন্তে অর্থ খরচ করতে পারেন।”
গত মাসে ভারত সফর করেন অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল। সেখান থেকে ফিরে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপের এ সিদ্ধান্ত আসে।
অস্ট্রেলিয়ার ‘সিম্পলিফাইড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেইমওয়ার্ক’ (এসএসভিএফ) অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নানা সূচকের ভিত্তিতে একটি ‘এভিডেন্স লেভেল’ দেওয়া হয়।
এসব সূচকের মধ্যে জালিয়াতি বা অন্যান্য কারণে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে থেকে যাওয়ার হার এবং পরবর্তী সময়ে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার হার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘ইএল থ্রি’ রেটিংয়ের অর্থ হলো—ভিসা আবেদনকারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত ইতিহাসের বিস্তারিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।