আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Journalist Mark Tully
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওতে যার কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত দেশের মানুষ; এই ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ আর বাঙালির দুর্দশার প্রকৃত চিত্র যিনি পৌঁছে দিতেন বিশ্বের কাছে, সেই প্রখ্যাত সাংবাদিক, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু স্যার মার্ক টালি মারা গেছেন।
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জানুয়ারি দুপুরে মারা যান বিবিসির সাবেক এই সাংবাদিক। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর। বিবিসি হিন্দি সার্ভিস জানিয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।
ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল দেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখায় মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয় বাংলাদেশ।
১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্ম নেওয়া মার্ক টালি পেশাগত জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর তিনি নয়াদিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে তাকে প্রায়ই বিবিসির অন্যতম খ্যাতনামা বিদেশ সংবাদদাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বিবিসি লিখেছে, বহু বছর তিনি পরিচিত ছিলেন বিবিসির ‘ভয়েস অব ইনডিয়া’ হিসেবে।
কাশ্মির মনিটর লিখেছে, দক্ষিণ এশিয়ার সম্প্রচার সাংবাদিকতার দিকপাল মার্ক টালি নিজেই এক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিলেন। ভারত, পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে একটি প্রজন্মের কাছে মার্ক টালির কণ্ঠস্বর ছিল বিবিসিরই সমার্থক।
“শান্ত, কর্তৃত্বপূর্ণ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন তার প্রতিবেদন ছিল অহংকারহীন দৃঢ়তা, আবেগতাড়িত না হয়েও সহমর্মিতা এবং আপসহীন স্পষ্টতার অনন্য উদাহরণ। কয়েক দশক ধরে উপমহাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও মানুষের জীবনের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অসাধারণ ভারসাম্য ও সততার পরিচয় দিয়েছেন।”
সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি এ অঞ্চলের বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন, সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন সংবাদ আর নিজের লেখায়। তার বইগুলোতে ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে তার গভীর সম্পৃক্ততার ছাপ স্পষ্ট।