প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে, তা কতটা বৈধ, সেই প্রশ্ন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ কতটা বৈধ, এক প্রতিবেদনে তা বিশ্লেষণ করেছে রয়টার্স। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ বলছে, মাদুরোকে আটক করতে তাদের বিচার বিভাগ সামরিক সহায়তা চেয়েছিল।

নিউইয়র্কের একটি গ্র্যান্ড জুরি মাদুরো, তার স্ত্রী, তার ছেলে, দুই রাজনৈতিক নেতা এবং একটি আন্তর্জাতিক গ্যাংয়ের কথিত এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সামাজিক মাধ্যমে বলেছিলেন, অভিযুক্তরা “শিগগিরই আমেরিকার আদালতে, আমেরিকার মাটিতে, আমেরিকান বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হবে।” তবে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের লাভ ‘চুরি’ করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সেই লাভ ফেরত নেবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভেনেজুয়েলা শাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেটা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কারণ একদিকে এটাকে লক্ষ্যভিত্তিক আইন প্রয়োগকারী অভিযান বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেরেমি পল বলেন, “আপনি একে আইন প্রয়োগকারী অভিযান বলে দাবি করে আবার বলতে পারেন না যে এখন আমাদের দেশটি চালাতে হবে। বিষয়টি একেবারেই অর্থহীন।”

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্ট হলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যুক্তরাষ্ট্র শাসন করা শীর্ষ দুই দলের প্রেসিডেন্টরাই অতীতে সীমিত পরিসরে ও ‘জাতীয় স্বার্থে’ সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দিয়েছেন। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস গত বছর ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের আদেশ দিতে হলে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমতি লাগবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, শনিবারের (৩ জানুয়ারি) অভিযানের আগে কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা আত্মরক্ষার মত সীমিত ব্যতিক্রম ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক পাচার ও গ্যাং সহিংসতা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত। তবে সেজন্য আরেক দেশে সশস্ত্র অভিযান আন্তর্জাতিক আইনে বৈধতা পেতে পারে না।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জাতীয় নিরাপত্তা আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম্যাথিউ ওয়াক্সম্যান বলেন, “শুধু ফৌজদারি অভিযোগই কোনো বিদেশি সরকারকে উৎখাত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বৈধতা দেয় না। মার্কিন প্রশাসন সম্ভবত একে আত্মরক্ষার তত্ত্বে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবে।”

২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ওই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১