নিজস্ব প্রতিনিধি
০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভার্চুয়ালি দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য সমন্বয় করেন ড. সিদ্দিকুর রহমান। ছবি-জাগো প্রহরী।
ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৪ জানুয়ারি নিউইয়র্কে এক সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে ইউনূসের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। জামায়াত-শিবিরের লোকজন একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ মুজিব আদর্শে উজ্জীবিতদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রকাশ্যে পিটিয়ে কিংবা ছুিরকাঘাতে হত্যা করছে। বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজ শেষে আগুন দিয়ে পৃুড়িয়ে দিচ্ছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে বিনা কারণে জেলে নেয়া হয়েছে। গোটা বাংলাদেশে ওরা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে নিপতিত ছাত্রলীগের সহকর্মীদের পাশে যারা দাঁড়াচ্ছে-তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। সহযোগিতার এ ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে ইউনূস তথা রাজাকারের কবল থেকে বাংলাদেশ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রবাসী নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা মার্কিন সিনেটর-কংগ্রেসম্যানসহ আন্তর্জাতিক বন্ধুদেরকে বাংলাদেশের ভয়ংকর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিক সমাবেশে শেখ হাসিনা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হয় কীভাবে? আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখাচ্ছে তাদের প্রার্থীকে ভোট না দিলে পিষিয়ে মেরে ফেলার। শেখ হাসিনা বলেন, দলীয় প্রার্থী না থাকলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা কাউকে ভোট দেবে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতাই থাকবে না।

যুুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সমাবেশে নেতৃবৃন্দকে পাশে নিয়ে বক্তব্য দেন হৃদয় মিয়া। ছবি-জাগো প্রহরী।
জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত পরিবেশে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমন্বয় করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় তার পাশে আরো ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা আবুল হাসিব মামুন, সোলায়মান আলী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতা মাহমুদুল হাসান। সমাবেশের আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নেন ছাত্রলীগ নেতা হৃদয় মিয়া, স্বপ্নিল খান, রায়হান মাহমুদ, মেসবাহ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, নুুরুল ইসলাম শান্ত, জয়, তাজুল ইসলাম সবুজ, শাকিব, জুয়েল প্রমুখ।
সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীও বক্তব্য দেন। সমাবেশে সব বক্তাই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সময়ের ব্যবধানে বাংংলাদেশের মানুষ তা অনুধাবনে সক্ষম হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। বক্তারা ইউনূসকে রাজাকারের শিরোমনি এবং জঙ্গিদের নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সসম্মানে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে ছাত্রলীগের কর্মীরা শেষ পর্যন্ত এই প্রবাসে সরব থাকবে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোনো কমিটি না থাকায় সংঘবদ্ধভাবে কাজকর্মে সমস্যার কথা উল্লেখ করে ড. সিদ্দিকুর রহমান শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে পরামর্শক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন।
ছবির ক্যাপশন-২ ছাত্রলীগ
যুুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সমাবেশে নেতৃবৃন্দকে পাশে নিয়ে বক্তব্য দেন হৃদয় মিয়া। ছবি-জাগো প্রহরী।