আসছে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আদেশ

বাতিল হবে নন-সিটিজেনদের ব্যাংক একাউন্ট!

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাতিল হবে নন-সিটিজেনদের ব্যাংক একাউন্ট!

অভিবাসন-বিরোধী সাড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে এবার নন-সিটিজেনদের ব্যাংক একাউন্ট বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ রকম কঠোর নীতি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসীদের রক্ত-ঘামে গড়ে উঠা আমেরিকার অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতনামা অর্থবিদরা। তারা উল্লেখ করেছেন, যে দেশের প্রাপ্ত বয়স্ক অর্ধেক মানুষেরই পাসপোর্ট নেই-তাদের ব্যাংক একাউন্ট তাহলে কি বাতিল হয়ে যাচ্ছে? উল্লেখ্য, শীঘ্রই এ ধরনের একটি নির্বাহী আদেশ জারি হচ্ছে বলে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ ইতিমধ্যে যেসব ব্যাংক-একাউন্ট খোলা হয়েছে এবং বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর একাউন্টধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন কিনা তা এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী বৈধ ভিসাধারী অথবা ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই ‘সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর’ সরবারাহ করে ব্যাংকে একাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে গ্রিনকার্ডও লাগে না নতুন একাউন্ট খোলার সময়। এমন একাউন্টগুলোর ভাগ্য এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে ওইসব একাউন্টে সঞ্চিত অর্থ কী কেন্দ্রীয় সরকার বাজেয়াপ্ত করবে-এমন প্রশ্ন ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ব্যবসা-আইন সম্পর্কিত সহযোগী অধ্যাপক জেরেমি ক্র্যাসের। যারা যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন না অর্থাৎ পাসপোর্টধারী না, তাদের একাউন্টগুলো কী বন্ধ করা হবে এ আশংকা অধ্যাপক জেরেমির। নতুন আদেশটি জনসমক্ষে প্রচারের পরই তা অনুধাবন করা সম্ভব হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন মনোভাবে ব্যাংকিং সেক্টরকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভিকটিম করা হচ্ছে-তা বলার অপেক্ষা রাখে না এবং এর সামগ্রিক ভিকটিম হয়ে পড়বে খোদ আমেরিকা এমন অভিমত অর্থনীতিবিদদের। হোয়াইট হাউস থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা সম্ভব না হলেও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে অর্থনৈতিক সেক্টরকেও জিম্মি করার মতো এ ধরনের পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রেমিটেন্সের ওপর ১% হারে ফেডারেল ট্যাক্স কার্যকর হওয়ার পর হুন্ডির প্রতি মেক্সিকানসহ বহুদেশের অভিবাসীদের বৈধপথে স্বজনের কাছে অর্থ প্রেরণের আগ্রহ কমেছে বলে ট্রাম্পের অর্থ মন্ত্রণালয়ের লোকজন গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন। ‘তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার পারপাস সার্ভ করছেন হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা ব্যবহার করে’-এ প্রশ্ন রিপাবলিকানদেরও। কারণ ট্রাম্প যদি সত্যি সত্যি নন-সিটিজেনজের ব্যাংক একাউন্ট বন্ধের আদেশ জারি করেন তাহলে সে নির্দেশ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বহু একাউন্টের কার্যক্রমের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আসবেন। যাচাই-বাছাই শেষে কবে না নাগাদ ব্যাংকের কর্মীরা নিশ্চিত হবেন তার ওপর নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট একাউন্টের ভাগ্য।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১