ঢাকা সংবাদদাতা
০৩ মে ২০২৬
Tarique Rahman addresses the DCs Conference 2026
জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৩ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একই সাথে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনারদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ, এটার প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
“আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।”
মাঠ প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
“সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সেটি হচ্ছে আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সাথে।”
নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, “প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিতলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা ব্যবহার না করি বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যাতে করে জনগণ সময়মত সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত যে সুফল লাভ করতে পারে।”
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই সম্মেলনে চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সম্মেলনে মোট অধিবেশন থাকছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি।
বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব সম্মেলনে উত্থাপিত হবে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।
সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদারকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্নেন্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়।
………………………….