আফগানিস্তানে ন্যাটো মিত্র বাহিনীকে নিয়ে মন্তব্য

ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বললেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বললেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী

Donald Trump

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আফগানিস্তানে ন্যাটো মিত্র বাহিনীকে নিয়েন করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় রাজনীতিক ও সাবেক সেনাদের সমালোচনার সুরের সঙ্গে সুর মিলিয়েই তিনি এই আহ্বান জানান।

গত সপ্তাহে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর কখনো প্রয়োজন হয়নি এবং মিত্ররা আফগানিস্তানে ‘সামনের সারি থেকে কিছুটা দূরে’ ছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির এক টক শোতে ২৫ জানুয়ারি রাতে পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘এভাবে মিত্রদের নিহত সেনাদের নিয়ে কথা বলা ঠিক নয় এবং তা অসম্মানজনক। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আজ ভিন্ন কিছু দাবি করা একেবারেই সত্য নয়।’

আফগানিস্তানে ন্যাটোর ‘অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম’ ও ‘রিজলভ সাপোর্ট’ মিশনে হাজারো জার্মান সেনা অংশ নেন এবং এতে ৫৯ জন নিহত হন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার হামলার পর এসব অভিযান শুরু হয়েছিল।
পিস্টোরিয়াস জানান, পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি তুলবেন এবং ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করবেন। তিনি বলেন, ‘এটি শালীনতা, সম্মান এবং উপলব্ধির একটি নিদর্শন হবে।’ এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ আরো কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা একই ধরনের মন্তব্য করেন।

স্টারমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সত্যিই ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন—যা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলা তার অবস্থান থেকে এক ধরনের ব্যতিক্রম।
ট্রাম্প শনিবার ‘সাহসী’ ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেও আগের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি এবং অন্য ন্যাটো মিত্রদের ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেননি। আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ন্যাটোর ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন।

জার্মানির সশস্ত্র বাহিনী পুনর্গঠনের উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়া পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপকে মেনে নিতে হবে যে গত ৭০ বছরের মতো করে আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না। তবে তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে বাহিনীকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জার্মান সামরিক বাহিনী ‘চমৎকার পথে’ রয়েছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১