S A Faroque
০২ জুলাই ২০২৫
প্রতীকী ছবি
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে জ্বর বলা হয়। জ্বর আসলে কোনো রোগ নয়, বরং এটি রোগের একটি লক্ষণ বা উপসর্গ। ফলে জ্বর হওয়াকে শরীরের ভেতরের কোনো রোগের সতর্কবার্তা বলা যেতে পারে।
একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় তখন তাকে জ্বর বলা হয়। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ৯৯°থেকে ১০০° ফারেনহাইটের মধ্যে থাকলে সেটি অল্প জ্বর, এর চেয়ে বেশি হলে তীব্র জ্বর।
শরীরের ভেতরে যখন কোনো জীবাণু আক্রমণ করে, সেটা ঠেকাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন কোষ থেকে পাইরোজেন নামক এক ধরনের পদার্থ নিঃসরণ করে। এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। তাই এ সময় তাপমাত্রা বেড়ে জ্বরের অনুভূতি হয়।
জ্বর কেন হয়?
অনেকগুলো কারণে জ্বর হতে পারে।
১. সংক্রমণ-যেমন ভাইরাস ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া ব্যাকটেরিয়া-মূত্রনালীর সংক্রমণ, টাইফয়েড, নিউমোনিয়াম, যক্ষা ইত্যাদি।
২. প্রোটোজোয়া-ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর।
৩. অটো ইমিউন ডিজিজ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এসএলই (SLE)
৪. যে কোনো ধরনের ক্যান্সারের কারণেও জ্বর হতে পারে যেমন : লিম্ফোমা, লিউকেমিয়া, লিভার ক্যান্সার।
৫. আকস্মিক ভয় বা মানসিক আঘাত পেলে জ্বর হতে পারে।
জ্বরের জন্য কিছু পরামর্শ
যে কারণেই জ্বর হোক, চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিরাপদ রাখতে কিছু পরামর্শ-
১. ঘুম বা বিশ্রামে থাকা।
২. প্রচুর তরল পানীয় পান করা।
৩. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।
৪. উষ্ণ পরিবেশে থাকা।
৫. জ্বর ১০১° F এর বেশি হলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। সাথে ভেজা কাপড় দিয়ে মাথা ও সমস্ত শরীর মুছে দিতে হবে।