নিউজ ডেস্ক
০৪ এপ্রিল ২০২৬
Jubaida Rahman
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ইরানে শিশু হত্যার প্রতিবাদ করতে পারতেন জুবাইদা রহমান। গত ৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় ফরিদা আখতার এ কথা বলেন।
গত ২৫ মার্চ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ এ যোগ দেন জুবাইদা রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প। দুই দিনের ওই আয়োজনে বিশ্বের ৪৫টির বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্র নেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেন। সেই সম্মেলনের কথা তুলে ধরে সাবেক উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা হয়তো পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, আমার কাছে খুব প্রহসন মনে হয়েছে যে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তিনি বিশ্বের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য একটা মিটিং ডেকেছেন এবং সেখানে বিশ্বের ফার্স্ট লেডিদের তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
“দুঃখজনকভাবে আমাদের ফার্স্ট লেডি সেখানে গেছেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনে ১৭০ জনের মত শিশু, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদেরকে মেরে তারা এরকম কথা বলে। এই ধৃষ্টতার জন্য তাদেরকে আমরা প্রতিবাদ জানাই। আমাদের ফার্স্ট লেডিও সেটার প্রতিবাদ করতে পারতেন।”
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, “আমেরিকার হামলার পর ইরানের মানুষ এতো কষ্টের মধ্যে, তাও ইরানের কোনো নাগরিককে ইন্টারভিউতে দেখি, তারা কেউ মাথা নত করেনি। এটা সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়। বরং তারা আরও প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন যে এ যুদ্ধ বিজয় না আসা পর্যন্ত তারা মাথা নত করবেন না।
“আমেরিকা সারা পৃথিবীতে মোড়লগিরি করে। সেখানে পৃথিবীতে একটা দেশ আমরা পেলাম যে তার সে মোড়লগিরিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।”
ইরানের যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইরানের নারীরা নাকি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। কিন্তু আমি দেখি যে স্টুডেন্ট হিসেবে ইউনিভার্সিটিতে ৫০ শতাংশ নারী আছেন, টেকনোলজিতে আছেন তারা সবকিছুতে আছেন।
“হ্যাঁ, এটা সত্য যে, তাদেরকে বিশেষ কিছু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হয় বলে কিছু দোষ থাকতে পারে। কিন্তু তারা কখনোই বলেনি যে, ‘বাইরের কেউ এসে আমাদেরকে মুক্ত করে দিক। যা করার আমরাই করব। তাও আমাদের কোন বাইরের সাহায্য দরকার নেই।’”
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইরানের হামলার বিষয়ে সাবেক ফরিদা আখতার বলেন, “ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মারছে। সেখানে তারা মানুষ মারছে না। তারা চায়, আমেরিকার মোড়লগিরি না থাকুক।”
ভাববৈঠকী আয়োজিত ‘সামাজ্রবাদী-জায়ানবাদী আগ্রাসন এবং ইরানের প্রতিরোধের রণকৌশল’ শীর্ষক সভায় আমন্ত্রিত ইরানের কয়েকজন প্রতিনিধিও ছিলেন।
তাদের উদ্দেশ করে ফরিদা আখতার বলেন, “এখানে যারা ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন, তাদের মাধ্যমে আমরা জানাতে চাই, আমরা ইরানের পাশে থাকবো। ইরানে যতদিন যুদ্ধ চলবে, আমরা তার পাশে আছি।”