মিশিগানে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ নামকরণের রেজ্যুলেশন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০২৬

মিশিগানে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ নামকরণের রেজ্যুলেশন বাতিল

মিশিগানের এখানেই ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’র নামফলক উঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। ছবি-জাগো প্রহরী।

এক সপ্তাহের মাথায়ই মিশিগানে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ নামকরণের রেজুলেশনটি গত ১৩ জানুয়ারি বাতিল করলো হ্যামট্র্যামক সিটি কাউন্সিল। একইসাথে ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে (২০২৬-১২ নম্বর রেজ্যুলেশন অনুযায়ী) ‘শেখ হাসিনা স্ট্রিট’ করার সিদ্ধান্তটিও ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই বাতিল করা হয়। সিটি কাউন্সিল বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে সিটির অন্তর্বর্তী ম্যানেজার আলেক্সান্দার ল্যাগরো আরো জানিয়েছেন যে, এখন থেকে এই সিটির কোনো সড়কের নামই ভিনদেশী কোনো রাজনীতিকের নামে করার আগ্রহ থাকলো না।
উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি সিটি কাউন্সিলে পাস হওয়া রেজ্যুলেশন অনুযায়ী এই সিটির ‘কার্পেন্টার স্ট্রিট’র অংশ বিশেষের নাম পাল্টিয়ে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবারের সভায় সিটির যোসেফ ক্যাম্পাউ এভিনিউ এবং বাফেলো স্ট্রিটের মাঝখানে ক্যানিফ স্ট্রিটের অংশ বিশেষের নাম ‘শেখ হাসিনা স্ট্রিট’ করার সিদ্ধান্ত পাসের পর সেখানে উপস্থিত বিএনপির সমর্থকরা তুমুল হৈ চৈ করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সাথে তুমুল ঝগড়া হয়। পরস্পরের বিরুদ্ধে গালিগালাজে গোটা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট তথা সিটি মেয়র এডাম আলহারবি ঘোষণা দেন যে, উভয় রেজ্যুলেশনই বাতিল করা হলো। বিদেশি রাজনৈতিক বিরোধ এই সিটিতে স্বাগত জানানোর অভিপ্রায় নেই বলেও মন্তব্য করেছেন সিটির ম্যানেজারসহ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, হ্যামট্র্যমক সিটির ৬ কাউন্সিলরের ৪ জনই বাংলাদেশি আমেরিকান। মেয়রসহ অন্য তিনজনের দু’জন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান এবং একজন আফ্রিকান আমেরিকান। ছোট্ট এই সিটির সিংহভাগ ভোটারই সিলেট অঞ্চলের অভিবাসী। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সাথে প্রায় সবাই যুক্ত। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রভাব দৃশ্যমান করতে গিয়ে প্রকারান্তরে দুই রাজনীতিককেই (শেখ হাসিনা এবং বেগম জিয়া) বহুজাতিক এ সমাজে অপমান করা হলো বলে বিদগ্ধ প্রবাসীরা মন্তব্য করেছেন। জানা গেছে, ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’র নামফলক উম্মোচনের জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে তারেক রহমানকে মিশিগানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা ছিল বিএনপির।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুনে ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ম্যারিল্যান্ড স্টেটের বাল্টিমোর সিটির ২০০ ওয়েস্ট সারাটগা স্ট্রিটের পুনঃনামকরণের রেজ্যুলেশন সিটি কাউন্সিলে পাসের পর ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা জোরালো প্রতিবাদ জানালে একই বছরের সেপ্টেম্বরে সেই নামফলক নামিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ইলিনয় স্টেটের শিকাগো সিটির নর্থ ক্লার্ক এলাকায় ৬৬০০ এবং ৬৮০০ ব্লকের মধ্যেকার রাস্তার নামকরণ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে করা হয়েছে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’। সেই নামকরণ বাতিলের দাবিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু অ্যাটর্নিকে চুক্তি অনুযায়ী ফি প্রদান না করায় নির্ধারিত তারিখে আদালতে অ্যাটর্নি উপস্থিত না হওয়ায় সেই আবেদন খারিজ হয় এবং ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ অটুট রয়েছে। উল্লেখ্য, শিকাগো সিটির ডাউন টাউনে ডেভন এভিনিউর অংশ বিশেষের নামকরণ ১৯৯৭ সালে ‘শেখ মুজিব ওয়ে’ করা হয়েছে। সেটিও বহাল রয়েছে।

এদিকে মিশিগানের হ্যামট্র্যমক সিটির ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ এবং ‘শেখ হাসিনা স্ট্রিট’ নামকরণের রেজ্যুলেশন পাসের পর তা বাতিলের ঘটনাটি আমেরিকায় জন্ম ও বেড়ে উঠা প্রজন্মকে অনাদিকাল প্রশ্নবানে জর্জরিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ প্রবাসীরা। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান এবং সেক্রেটারী ডা. মানিক মিশিগান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অপরদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মিশিগান স্টেট বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ক্ষোভের এই পরিস্থিতি গোটা আমেরিকায় পরস্পরবিরোধী মতবাদে বিশ্বাসী দুই দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা ব্যক্ত করছেন অভিজ্ঞজনেরা।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১