শেষমেষ ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানসহ অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেষমেষ ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানসহ অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণ

US strike on Iran

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানে শনিবার সকাল থেকে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘প্রি অ্যাম্পটিভ’ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশগুলোর গণমাধ্যম। এ হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থাও’ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদকরা ইরানের রাজধানী তেহরানের একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে এবং ধোঁয়া দেখতে পেয়েছে।

একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও তেহরানের জামহুরি এলাকায় আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস।

ইরানি গণমাধ্যমগুলো প্রথমে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের খবর দেয়। পরে ফারস রাজধানীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে আরও বিস্ফোরণের খবর দেয়।

তেহরানের হাসান আবেদ ও জামহুরি চত্বরে ধোঁয়ার ছবি দিয়েছে বিবিসি।

পাল্টা ইরানির হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টা থেকে সাইরেন বাজছে।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সর্বশেষ দফার আলোচনায় ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বলে খবর গণমাধ্যমের। যদিও ওই আলোচনার পর শুক্রবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর ‘খুশি নন’। তার মধ্যেই শনিবার সকালে ইসরায়েল এ হামলা চালাল।

মার্কিন এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ এক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে।

ইরানে মার্কিন বাহিনীও হামলা চালাচ্ছে বলে মার্কিন তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন। কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই এ হামলা হচ্ছে, এবং হামলার আওতা ‘ছোট নয়’, বলেছেন এক কর্মকর্তা।

মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধযান মোতায়ন করেছে ওয়াশিংটন। তাদের দুটি বিমানবাহী রণতরীও এখন ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। আছে কয়েকশ যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার, অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ অনেক কিছু।

তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের আশপাশে হামলা হয়েছে। রাজধানীর উত্তরের সৈয়দ খানদান এলাকায়ও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম।

তবে খামেনি এখন তেহরানে নেই এবং তাকে নিরাপদ এক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এ হামলাকে ‘প্রিঅ্যাম্পটিভ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নির্মূলেই’ এ হামলা চালানো হয়েছে।

সিএনএন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই ইসরায়েল এ হামলা চালিয়েছে।

তেহরানের বিস্ফোরণের পর ইসরায়েল ও ইরান উভয়ই তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পাল্টায় তারাও পাল্টা ‘সর্বনাশা’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

“আমরা তোমাদের সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু তোমরা এমন পথে যাত্রা করেছো, যার পরিণতি আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনটাই লিখেছেন ইরান পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।

ইরানে হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

“কিছুক্ষণ আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে বড় অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানি শাসকদের দিক থেকে আসা হুমকি নির্মূল করে মার্কিনিদের সুরক্ষা দেওয়া,” বলেছেন তিনি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১