নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
US Visa suspension
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, সোমালিয়া, হাইতি, ইরান, ইরিত্রিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার ৭৫ দেশে মার্কিন কন্স্যুলেটে ইমিগ্র্যান্ট-ভিসা প্রসেসিং স্থগিতের যে নির্দেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মাসে জারি করেছে তা অবিলম্বে উঠিয়ে নেয়ার দাবিতে ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। ওই স্থগিতাদেশকে বেআইনি এবং জাতি ও ধর্মগত বিদ্বেষপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনদের পক্ষে এটি সম্মিলিতভাবে দায়ের করেছে ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টার, ডেমক্র্যাসি ফরোয়ার্ড, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, দ্য ওয়েস্টার্ন সেন্টার অন ল’ এ্যান্ড পভার্টি, দ্য সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস, এবং কলম্বো অ্যান্ড হার্ড’ নামক নাগরিক ও মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত সংস্থা।
উল্লেখ্য গত ২১ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্থগিতাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপরোক্ত দেশসমূহের লোকজন ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তারা বেআইনি পন্থায় খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, গৃহায়ন সহায়তা নেয়। এর ফলে সিটিজেনরা বিপাকে পড়ছেন, ট্যাক্সের অর্থ চলে যাচ্ছে এমন সব খাতে যা হওয়ার কথা নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ওই স্থগিতাদেশটি বলবত রাখবে যতক্ষণ পর্যন্ত কন্স্যুলার অফিসার নিশ্চিত হবেন যে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আসতে আগ্রহীরা কখনোই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনদের নিকটাত্মীয়রা ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা’ পেয়ে থাকেন। প্রতি বছর দেড় লাখের মতো ভিসা ইস্যু হয় এ সেক্টরে। আরো উল্লেখ্য, ভিসার জন্য আবেদনকারিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হয় যে, স্বজনেরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এর ব্যতয় ঘটলে আবেদনকানিকে দায়-দেনা বহন করতে হবে। এতদসত্বেও হঠাৎ করে ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ প্রদানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গত সপ্তাহে ৭৫ জন কংগ্রেসম্যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে চিঠি দিয়েছেন। তারাও আহবান জানিয়েছেন অবিলম্বে ওই স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নেয়ার জন্য।
স্থগিতাদেশটি স্থায়ী কোনো ব্যাপার নয় বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, আবেদনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে যে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আসার পর সংশ্লিষ্টরা সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হবেন না। সেটি যথাযথভাবে অনুসরণের পরই ইস্যু করা হবে ভিসা। এই স্থগিতাদেশ বিশ্লেষণের পর নিউইয়র্ক অঞ্চলের খ্যাতনামা ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক মঈন চৌধুরী এ সংবাদদাতাকে জানান, পারিবারিক কোটায় আবেদনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ইন্টারভিউ নেয়া হচ্ছে। তবে ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়াটি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের জন্যে। অ্যাটর্নি মঈন উল্লেখ করেন যে, ট্যুরিস্ট, বিজনেস, স্টুডেন্ট, বিনিয়োগ ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্কে দায়েরকৃত মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়নি এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ধর্ম-অঞ্চল-জাতিগত বিদ্বেষমূলকভাবে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে-যা আইনসিদ্ধ হয়নি। যারা আবেদন করছেন তারা আর্থিক স্বচ্ছলতার ডক্যুমেন্ট সাবমিট করেছেন। এছাড়া ভিসা নিয়ে আগতদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ এবং শিক্ষিত। তাই তারা কাজকর্ম করেই নতুন জীবন শুরু করবেন।