অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২

দুর্বৃত্ত দমনের নামে আওয়ামী লীগের ৫৩ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জানুয়ারি ২০২৬

দুর্বৃত্ত দমনের নামে আওয়ামী লীগের ৫৩ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার

Devil Hunt Operation In Bangladesh

চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত ২৫ দিনে বাংলাদেশের পুলিশ আওয়ামী লীগের ৫৩ হাজার ৩৬৭ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছেন কথিত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি অবশ্য বলেছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনের আগে সারাদেশে গ্রেফতার অভিযান চলছে। তবে এই অভিযানের একমাত্র টার্গেট হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। ১৯ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মামলা এবং ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া চলমান অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ এর আওতায় ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ডেভিল হান্ট বলতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বুঝিয়েছেন। এভাবেই চরম অরাজক পরিস্থিতিতে নিপতিত করা হয়েছে গোটা জনগোষ্ঠিকে।

প্রতিদিনই ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ আওয়ামী লীগ সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। লুট-তরাজের পর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়ি-ঘর। অকথ্য নির্যাতনের পর হত্যা করা হচ্ছে লোকজনকে। এসব বর্বরতা-আইন বহিভর্‚ত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরব হলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার হাতিয়ে নেয়া ইউনূসের কোনো বোধোদয় ঘটছে না। অধিকন্তু তিনি এবং তার সমর্থক জঙ্গিরা বেপরোয়া হয়ে লুটতরাজে মেতে রয়েছে। এর পরিণতি কী হতে পারে এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ভাবনা নেই এ ধরনের অপকর্মে লিপ্তদের। বৈষম্য বিলুপ্তির স্লোগানের নামে জঙ্গি হামলায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে উৎখাতের পর বাংলাদেশের মানুষ এবং জাগ্রত বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করছেন ইউনূসের লেলিয়ে দেয়া দুর্বৃত্তদের অপকর্ম। এভাবেই চলছে স্ববিরোধী আচরণ। সহজ-সরল মানুষের বোধোদয় ঘটছে প্রতিনিয়ত এবং জঙ্গি শাসনে অতীষ্ঠ দেশের সবাই। দিন-মজুর থেকে রিক্সাচালক সকলেই চাঁদাবাজের কবলে, চাঁদা না দিলেই নির্যাতন চালানোর পর শেখ হাসিনার দোসর তকমা লাগিয়ে হত্যা মামলার আসামি করা হচ্ছে। নিরবে চাঁদাবাজি চলছে ঘরে ঘরে। একদিকে চাঁদাবাজি, আরেকদিকে বোরকা বাহিনী বাড়ি বাড়ি ঘুরে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অভয় দিচ্ছে যে, দাঁড়ি-পাল্লায় ভোট দিলে সকলকে মামলার বেড়াজাল থেকে মুক্তি দেয়া হবে। স্বাভাবিক জীবনে কোনো ভয় থাকবে না। এমনকি যেসব পরিবার খাদ্য-কষ্টে রয়েছেন তাদেরকে নগদ অর্থ সহায়তার কথাও জানানো হচ্ছে। এভাবেই চলছে হরিবল চক্রের অপরাধ-পরিক্রমা।

এদিকে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের নগ্ন হোলি খেলা নিয়ে বিব্রত যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। নিকট প্রতিবেশী ভারত সরকারও ইউনূস বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। এমনি অবস্থায় ইউনূসের অপকর্মের দায় নিয়ে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। উভয় পক্ষই গোপনে ইউনূসকে ‘রাষ্ট্রপতি’ বানানোর টোপ দিয়েছে। অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে নীলনকশা অনুযায়ী যারাই ক্ষমতায় যাবে তাদেরই রাষ্ট্রপতি হবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূসের কথা অনুযায়ী এটা হবে ১০০ বছরের মধ্যে ব্যতিক্রমী একটি নির্বাচন। অর্থাৎ ভোটারের উপস্থিতির নাটক সাজিয়ে পছন্দের লোকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। যা ইতিমধ্যেই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ প্রথম সাড়ির ৪টি বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনে সকলে প্রত্যক্ষ করেছেন। ছাত্রলীগের লুঙ্গি বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত ছাত্র শিবির হঠাৎ করে এত সংগঠিত হলো যে, ছাত্রদল ধরাশায়ী হয়েছে। একই ষড়যন্ত্র ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরেও পাকাপোক্ত করা হয়েছে। তবে এই ষড়যন্ত্রের লাটাই কার হাতে সেটি এখনো বোঝা যাচ্ছে না।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন মুল্লুকে লবিংয়ে জামায়াতে ইসলামের তালিকাভুক্ত ৪৪ হাজার কর্মী প্রতিমাসে নির্দিষ্ট হারে তহবিলের জোগান দিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময়েও মোটা তহবিল দিয়েছে। এখন তারা তহবিল সংগ্রহ করছে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ে। এতে যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আরিজোনা, বস্টন, কানেকটিকাটসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার দুই শতাধিক মসজিদের ইমাম। তারা প্রত্যেকে এক হাজার ডলার করে প্রদানের অঙ্গিকার করেছেন। জামায়াত-শিবিরের সমর্থক প্রবাসীরা অধিকাংশই মুসলিম উম্মাহর ব্যানারে সংগঠিত। তারা প্রতি বছরই ফিলাডেলফিয়ায় ৩ দিনের সম্মেলনে মিলিত হন, যেখানে ১০ হাজারের অধিক প্রবাসীর সমাগম ঘটে।
এরইমধ্যে ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে ১৬ জানুয়ারি এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আরও ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রস্থ মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।

বৈঠকের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান এই উদ্যোগের জন্য রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান এবং পারস্পরিক শুল্কহার সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতি তাঁর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার তাঁকে অবহিত করেছেন যে, গত সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিশেষ উদ্যোগের জন্য ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ডা. শফিকুর রহমান আরও ধন্যবাদ জানান যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ তুলা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত মানবসৃষ্ট (ম্যানমেড) ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের জন্য। তিনি এই প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ ফর্মুলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা একদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করবে এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতকে উপকৃত করবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ফেব্রæয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে, তবে তাঁর দল এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। ডা. শফিকুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি)-এর তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সমর্থনের কথা জেনে তাঁরা আনন্দিত। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণে একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হবে। বৈঠকের শেষ পর্বে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করবে।

এদিকে বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের কবল থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেসনাল হিয়ারিংয়ের (শুনানি) আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানেও ক্যাপিটল হিলকে অবহিত করা হবে বৈষম্য বিরোধী সমাজ তথা রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গিকারে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ইউনূস সরকারের অন্যায়-অবিচারের তথ্য। একইসাথে বিচারের নামে প্রহসনের নাটক এবং গত ১৫ মাসে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার জন্য একজনকেও গ্রেফতার না করার বিস্তারিত তথ্য। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর প্রকাশ্য হামলা, ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার কাহিনীও থাকবে ওই শুনানিতে। এছাড়া আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটকে নির্বাচনের বাইরে রেখে যে নাটক সাজানো হবে, সেটির গ্রহণযোগ্যতার আলোকেও মতামত উপস্থাপন করা হবে । মোট ভোটারের ৬৫ শতাংশ হলেন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সমর্থক। তাহলে ৩৫ শতাংশ ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণমূলক বলা যাবে?

মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের কোনো কথাই স্বীকার করতে চাচ্ছে না ইউনূসের নেতুত্বাধীন সরকার। এমনকি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলোকেও ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেশে ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ঘিরে সংঘটিত অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মীয় বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক নয়, বরং সাধারণ অপরাধের আওতাভুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তরের প্রস্তত করা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলেছে, অপরাধ দমনে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও দৃঢ়তার নীতিতে অটল রয়েছে সরকার। এতে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ এই এক বছরে সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাইকৃত এ তথ্যগুলো এসেছে থানায় দায়ের করা মামলা (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগপত্র এবং চলমান তদন্তের হালনাগাদ নথি থেকে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিতে সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে। বিপরীতে ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

অর্থাৎ সংখ্যালঘুদের ঘিরে সংঘটিত অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং সাধারণ অপরাধের আওতাভুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই মন্দির ভাঙচুর, ধর্মীয় প্রতিমা অবমাননা বা উপাসনালয়ে হামলার মতো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর বাইরে অল্পসংখ্যক হত্যাকান্ডসহ কয়েকটি অন্যান্য অপরাধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক নয় এমন ঘটনাগুলোর পেছনে প্রধানত রয়েছে পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ, জমিসংক্রান্ত দ্ব›দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং পূর্বশত্রুতাজনিত সংঘাত। এসব অপরাধের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেস উইং বলছে, এ পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। সব অপরাধই গুরুতর এবং জবাবদিহি প্রয়োজন। তবে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ দেখায়, সংখ্যালঘুদের ভুক্তভোগী হওয়া অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং সমাজে বিদ্যমান সাধারণ অপরাধপ্রবণতা থেকেই ঘটে। প্রতিবেদনে পুলিশের তৎপরতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। শত শত ঘটনায় মামলা হয়েছে, অনেক ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর কিছু ঘটনায় তদন্ত এখনো চলমান। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয় বা সংবেদনশীল বিষয় জড়িত থাকলে পুলিশ দ্রæত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর দেশে সহিংস অপরাধে গড়ে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এ সংখ্যা কোনোভাবেই গর্ব করার মতো নয়। প্রতিটি মৃত্যু একটি ট্র্যাজেডি। তবে একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংস অপরাধ সব সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী বা ভৌগোলিক সীমা নির্বিশেষে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১