আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Liam Conejo Ramos, 5, was detained after arriving home from preschool in Minnesota
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসের কলাম্বিয়া হাইটস শহরতলী থেকে অন্তত চার শিশুকে আটক করেছে অভিবাসন কর্মকর্তারা। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুও আছে।
স্থানীয় একটি স্কুলের কর্মকর্তারা এবং ওই শিশুর পারিবারিক আইনজীবী এমন কথা জানিয়েছেন। পাঁচ বছরের শিশু আটকের বিষয়ে সরকার পক্ষ থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দেওয়া ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এই আইনজীবী।
লিয়াম কোনেজো রামোস নামের পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির পরিবারের আইনজীবী মার্ক প্রোকশ বলেন, লিয়াম ও তার বাবা ইকুয়েডরের নাগরিক। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করে বৈধভাবে দেশটিতে আছে।
দুই জনকেই টেক্সাসের ডিলিতে একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদেরকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আইনজীবী প্রোকশ।
কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ সপ্তাহে সশস্ত্র ও মুখোশ পরা ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) কর্মকর্তারা সেখানকার চার শিক্ষার্থীকে আটক করেছেন।
তিনি জানান, আটক ৪ জনের মধ্যে ২ জন ১৭ বছর বয়সী, ১ জন ১০ বছর বয়সী এবং ১ জন ৫ বছর বয়সী শিশু। পাঁচ বছরের এই ছেলে শিশুটির নাম লিয়াম কোনেজো রামোস।
স্টেনভিক বলেন, “আইসিই এজেন্টরা আমাদের এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমাদের স্কুলগুলোর চারপাশে ঘোরাফেরা করছেন। আমাদের বাস অনুসরণ করছেন। একাধিকবার আমাদের পার্কিং লটে ঢুকেছেন এবং আমাদের শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন।”
আইসিই- এর এমন কর্মকাণ্ড এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং শিশুদের মনের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়েছে বলে স্টেনভিক উল্লেখ করেন।
তবে ৫ বছরের শিশু রিয়াম আটকের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলছেন, শিশুটির বাবা অ্যাড্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেজো আরিয়াস যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বাস করছেন। তবে মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, শিশু লিয়াম বাবার সঙ্গে প্রি–স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর চোখের সামনেই মুখোশধারী অভিবাসন কর্মকর্তাদেরকে তার বাবাকে বাড়ির গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে যেতে দেখে।
এরপর কর্মকর্তারা লিয়ামকে জিম্মি করে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন বলেও জানিয়েছেন অন্তত দুইজন প্রত্যক্ষদর্শী।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লিয়ামের বাবা পালিয়ে যাওয়ায় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে খুঁজছিলেন। এ সময় একা থাকা শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর উপায় ছিল না।
প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তারা (আইসিই কর্মকর্তা) কী করতেন? তারা কি পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুকে ঠান্ডায় মারা যেতে দিতেন? তারা কি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতেন না?”
তবে কলাম্বিয়া হাইটস স্কুল বোর্ডের চেয়ার মেরি গ্র্যানলুন্ডসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, লিয়ামের স্কুলের কর্মকর্তারা, পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক একজন এবং প্রতিবেশীরা সবাই শিশুটিকে নিজেদের কাছে নিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু আইসিই কর্মকর্তারা শিশুটিকে আটকে রাখেন। গ্র্যানলুন্ড জানান, স্কুলের কর্মকর্তারা বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে সেখানকার শিশুদের দেখভালের এখতিয়ার রাখেন।
শিশুটির মা বাড়ির ভেতরে ছিলেন। তার স্বামী তাকে বাইরে বেরোতে মানা করেছিলেন সম্ভবত আটক হওয়া এড়ানোর জন্য। ছেলেটিকে জিম্মি করে মাকে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা চলেছিল কি না, এ প্রশ্নের জবাবে গ্র্যানলুন্ড বলেন, ‘ঠিক তাই’।
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের আওতায় এমন আটকের ঘটনা ঘটছে। মিনিয়াপোলিসে প্রায় তিন হাজার ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক এবং ৩ সন্তানের মা রেনি গুড নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে।
কলাম্বিয়া হাইটস সিটি কাউন্সিলের সদস্য র্যাচেল জেমস জানান, অভিবাসন কর্মকর্তারা ৫ বছরের শিশুটিকে একটি কাল এসইউভি গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে দ্রুত চলে গিয়েছিলেন।